Wednesday, November 9, 2016


অনুগল্প:
ছিটমহল


নিয়াজ উদ্দিন সুমন


এক.
যে মাটিতে গভীর নিদ্রায় শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে মাস্টার বাবুর পরম প্রিয় মা-বাবা। যে ভিটে-মাটির সোদা গন্ধে হারিয়ে যায় সকল ক্লান্তি, জাগ্রত হয় ভাললাগার ভিন্ন অনুভুতি । যত্নে গড়া বাড়ির ভিতরে-বাহিরে, শান বাধানো পুকুর ঘাটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সন্তানদের শৈশব-কৈশরের মনোরম দিনের মধুময় স্মৃতিগুলো আর সবখানে লেগে আছে তাদের নরম হাতের র্স্পশ। ঘটে যাওয়া হাজারো ঘটনার সাক্ষি হয়ে বাড়ির চারপাশের এখনো দাড়িয়ে আছে সারি সারি  তাল, নারিকেল, আম-কাঠাঁল, আর  দেবদারু গাছ। গত চারদশক ধরে যে মাটির টানে ছুটে যাওয়া হয়নি কখনো কোন খানে। সকল আবেগকে মাড়িয়ে বাস্তবতাকে সঙ্গী করে স্বপরিবার চলে যেতে হবে নিজ জন্মভুমি ছেড়ে। যার পরতে পরতে লেগে আছে ভাললাগার ভালোবাসার শিহরন।

দুই.
র্দীঘ 40 বছরের বন্দী দশা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে দেশের একজন নাগরিক বলে পরিচয় দিতে পারবে খুব শীঘ্রই, এমন খবর শুনে মাস্টার বাবুর দেহ-মনে বয়ে গেল বাধ ভাঙ্গা আনন্দের উচ্ছাস। সকল সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত নাগরিকত্বহীন জীবন-যাপনের অবসান হতে যাচ্ছে চার দশক পরে বাংলাদেশ–ভারত ঐতিহাসিক ‘মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির’ আওতায় সিটমহল বিনিময় বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

তিন.
একদিকে প্রাপ্তির আনন্দ অন্যদিকে হারানোর বেদনা। এই যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিছু পেতে হলে কিছু ছাড় দিতে হয় এই কথাটি চরম সত্য ছিটমহল বাসীদের ক্ষেত্রে। যে প্রকৃতি পরিবেশের আলোছায়ায় বেড়ে উঠা তা ছেড়ে মানিয়ে নিতে হবে নতুন কোন পরিবেশে নতুন ভাবে। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবী যাদের কে ‍সুখে-দুখে সবসময় কাছে পাওয়া, যাদের ভালবাসায় হৃদয় আঙিনা ভাললাগায় প্রতিনিয়ত সিক্ত হওয়া, তাদের মায়ার বন্ধন পিছনে ফেলে চলে যেতে হবে আগামী নতুন দিনের সম্ভবনার পথে। ভাবতে ভাবতে মাস্টার বাবুর চোখের কোনে জল এসে জমা হয় । মুর্হূতে হাসিমাখা মুখ মুলিন হয়ে যায় নিষ্ঠুর বাস্তবতায়।



প্রকাশিত:
শনিবার , অক্টোবর 29, 2016

Tuesday, August 30, 2016

□ গল্প » প্রেম কিংবা বিরহের গল্প

এক.

সোনাইল গাছের আধো আলো আধো ছায়ার নীচে বসে বাহারি মানুষের আনাগোনা খুব ভালভাবে উপভোগ করছিল পড়ন্ত বেলা শেষে বৈশাখি মেলায়। ভীড় থেকে একটু দুরে নিরিবিলি পরিবেশে একা একা টিপটপ শব্দে বাদাম খাওয়া হচ্ছিল বেশ মজা করে। হঠাৎ সুজনের চোখ জোড়া আটকে গেল। রিকশায় থাকা হাতে হাত রাখা হলুদ বরণ এক জোড়া প্রানবন্ত অর্পূব মুখের উৎচ্ছল হাসির ঝলকে। স্মৃতির প্রজাপ্রতি গুলো ডানা মেলতে শুরু করল এক এক করে। মুর্হূতে সুজন হারিয়ে গেল ফেলে আসা সুন্দর দিন গুলোতে। 


দুই.

আয়ের সল্পতার কারনে মন চাইলেও প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বিশেষ দিনে কিছু উপহার দেওয়া হত না সুজনের। সুজানা টিউশনি করে টাকা জমিয়ে প্রায় সুজনকে উপহার দিত। সুজানা কষ্ট পাবে আর তাই সুজন অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিত তার ভালবাসায় জড়ানো উপহার সামগ্রী হাসি মুখে। সময় পরিবর্তন হয়েছে। উপহার দেওয়া, ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মতো দারুন সক্ষমতা হয়েছে এখন সুজনের। এরপর ও সুজন কিছুই করতে পারে না সুজানার জন্য। অদৃশ্য এক দেয়াল বাধাঁ হয়ে আছে দু’জনের অকৃত্রিম ভালবাসার মাঝে। 



তিন.

কাল বৈশাখি ঝড়ের মতো হঠাৎ করে কিছু বুঝে উঠার পূর্বে সুজানার বিয়ে হয়ে যায় এক সরকারি কর্মকতার সাথে। সুজানার পরিবার চাইনি সদ্য পাশ হওয়া একজন বেকার ছেলের সাথে তার বিয়ে হোক। পরিবারের অত্যধিক চাপের কারনে ভাললাগার ভালবাসার প্রিয় মানুষটির মমতাময় মধুর বন্ধন ছিন্ন করে অজানা অচেনা বাহুডোরে সুজানা আবদ্ধ হয়েছিল সেদিন। যে সুখের আশায় তড়িঘড়ি করে বিয়ে দিয়েছিল তার পরিবার সেই সুখ পাখিটির ছোয়াঁ অধরাই থেকে গেল তার জীবনে। মনের স্খুই যে আসল সুখ যা বুঝতে পারেনি তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন। যে সুখ টাকা-পয়সা দিয়ে কখনো পাওয়া যায় না, তা পাওয়ার জন্য যতই চেষ্টা করা হোক না কেন !

www.golpokobita.com

Wednesday, August 17, 2016

□ গল্প: ● আত্ম-উপলব্ধি ●




.
ছোট-খাটো দোখানটি এখন বেশ বড় আধুনিক হয়েছে পূর্বেও চেয়ে আর্থিক অবস্থা এখন অনেক ভাল দেলুমিয়ার সবাই বলে সেই নাকি ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে রাতারাতি পয়সাওয়ালা হয়ে গেছে দেলু বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে আত্মীয়-স্বজন মনে করে পাড়া-প্রতিবেশীরা দেলুর আর্থিক উন্নতিতে ঈর্ষানিত হয়ে এমন কুৎসা রটনা করে তার বিরুদ্ধে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেলুমিয়া এই ইয়াবা ট্যাবলেট এর ব্যবসা চালিয়ে যায় খুব গোপনে কয়েকবার পুলিশ তার দোখান তল্লাশি করেও কোন প্রমাণ পায়নি

.
দেলুর চেয়ে রতন মিস্ত্রি আর্থিক অবস্থা আকাশ পাতাল ব্যবধান সুন্দরে মোহিত হয়ে পাশের গ্রামের রতন মিস্ত্রির এক মাত্র মেয়ে রতœাকে সব খরচ দিয়ে বিয়ে করেছে দেলুর মা-বাবা নেই এক বোন ছিল তার বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগে সংসারে এখন দুজন দেলু আর তার স্ত্রী রতœ কিছুদিন পর তাদের ঘরে নতুন অতিথি আসবে একলা বাড়িতে দেখাশুনা করার মতো কেউ না থাকায়  রত্না  বাপের বাড়ি চলে গেছে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির বিজলি বানু কে ঠিক করে দিয়ে গেছে সময়মতো দেলুর খাওয়া-দাওয়ার যাবতীয় দেখাশুনা করতে

.
অভাব-অনটনের মধ্যেও ভাল চলছিল বিজলি বানুর ছোট সংসার হরতাল-অবরোধের সময় পেট্রোল বোমায় নির্মম ভাবে প্রাণ হারায় বিজলির স্বামী এরপর থেকে বিজলি মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে সংসার চালায় অনেকে তাকে বিয়ে করার প্রস্থাব দিয়ে ছিল সমাজের দুষ্ট লোকেরা বিভিন্ন ভাবে লোভ দেখিয়ে কু-প্রস্থাব দিয়েছিল দুই ছেলে-মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বিজলি সাড়া দেয়নি তাদের কোন আহবানে সময়মতো কাজে আসে কাজে ফাঁকি দেয় না কখনো অন্য অনেকের মতো মালিকের অনুপস্থিতিতে চুরির অভ্যাস নেই বলে বিজলিকে সবাই পছন্দ করে সাড়া গ্রাম জুড়ে এই জন্য বেশ সুনাম আছে তার

.
হাসপাতালের বারান্দায় অস্থিরচিত্তে পাইচারি করছে দেলুমিয়া অনেকক্ষন যাবত অপেক্ষা করছে ডাক্তারের কাছ থেকে সুখবর শুনার জন্য ডাক্তার এসে যা বলল তা প্রত্যাশা করেনি কখনো মা সুস্থ থাকলেও সন্তান বেচেঁ নেই চোখ দিয়ে অনবরত টপটপ জল পড়তেছিল শ্রাবণ ধারার মতো নিজেকে ধরে রাখতে পারছিল না, হারানোর কষ্টে বুক ভেঙ্গে যাচ্ছিল তার এখন বুঝতে পারছে হারানোর বেদনা কতটা কষ্টদায়ক যা সেই আগে কখনো উপলব্ধি করেনি পাপ কাজের জন্য আজকের এই পরিনতি নিজের প্রতি খুব ঘৃনা হচ্ছে তার এখন থেকে আর কোন খারাপ কাজ করবে না দেলু মিয়া শপথ করেছে মৃত সন্তানের মাথায় হাত রেখে


.
বিজলি বানুর এক ছেলে এক মেয়ে মেয়ে এক বছর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গিয়েছিল কেন এমন করেছিল মেয়েটি তার আসল রহস্য এখনো অজানা সবার কাছে কেউ না জানলেও দেলুমিয়া বিবেকের কাছে নিজে এখনো অপরাধী সেই দিন বর্ষার রাতে বিজলি বানু অসুস্থছিল বলে মেয়েকে পাঠিয়েছিল রাতের খাবার তৈরি করতে দেলুমিয়ার বাড়িতে কামনার তাড়নায় ক্ষুধার্ত শিক্ষারী পশুর মতো ফাঁকা বাড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মেয়েটির উপর পরদিন মেয়েটি লজ্জা, ভয় আর অপমানে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিল চিরতরে বিজলি বানুর এখন বেচেঁ থাকার শেষ সম্ভল ছেলেটি পাহাড়ে গাছ কাটতে গিয়ে কুড়ালের আগাতে পা কেটে পেলেছে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে ডান পায়ে চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন যার ব্যায় ভার বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় সাহায্যের জন্য অনেক জায়গায় গিয়েছে সবার কাছ থেকে যা সহযোগিতা পেয়েছে তা দিয়ে চিকিৎসার খরচ হচ্ছে না আরো অনেক টাকার প্রযোজন


.
বিজলি বানুর ছেলে চিকিৎসা শেষে এখন পরিপূর্ন সুস্থ হয়েছে মা তার ছেলেকে সুস্থ পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে ছেলের চিকিৎসার সব টাকা দেলুমিয়া দিয়েছে নিজের কাছে কেমন যেন এক প্রশান্তি কাজ করছে যে ভুলের কারনে মেয়েটি প্রাণ দিয়েছে তার ক্ষতিপুরণ কখনো টাকা দিয়ে মূল্যায়ন হবে না যতদিন বেচেঁ থাকবে ততদিন এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানুষের উপকার করে যাবে এমন প্রতীজ্ঞা দেলুমিয়ার উপকার করার মাঝে এত সুখ এত আনন্দ থাকতে পারে যা আগে কখনো উপলব্ধি করেনি দেলুমিয়া অন্যায় আর পাপ কাজের মাঝে ব্যক্তি জীবন কেমন কারে অশান্তি, অশুভ ছায়া আর অন্ধকারে পর্যবসিত হয় চলার পথে বিগত দিনগুলোতে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দেলুমিয়া সন্তাান মৃত ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ইয়াবা ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে হালাল ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছে এরপর থেকে সাধ্যমত মানুষের উপকার করা তার নিয়মিত নেশা হয়ে দাড়িয়েছে

©নিয়াজ উদ্দিন সুমন

Sunday, June 5, 2016

গল্প::::::: আত্ম-উপলব্ধি


.
ছোট-খাটো দোখানটি এখন বেশ বড় আধুনিক হয়েছে পূর্বেও চেয়ে আর্থিক অবস্থা এখন অনেক ভাল দেলুমিয়ার সবাই বলে সেই নাকি ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে রাতারাতি পয়সাওয়ালা হয়ে গেছে দেলু বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে আত্মীয়-স্বজন মনে করে পাড়া-প্রতিবেশীরা দেলুর আর্থিক উন্নতিতে ঈর্ষানিত হয়ে এমন কুৎসা রটনা করে তার বিরুদ্ধে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেলুমিয়া এই ইয়াবা ট্যাবলেট এর ব্যবসা চালিয়ে যায় খুব গোপনে কয়েকবার পুলিশ তার দোখান তল্লাশি করেও কোন প্রমাণ পায়নি

.
দেলুর চেয়ে রতন মিস্ত্রি আর্থিক অবস্থা আকাশ পাতাল ব্যবধান সুন্দরে মোহিত হয়ে পাশের গ্রামের রতন মিস্ত্রির এক মাত্র মেয়ে রতœাকে সব খরচ দিয়ে বিয়ে করেছে দেলুর মা-বাবা নেই এক বোন ছিল তার বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগে সংসারে এখন দুজন দেলু আর তার স্ত্রী রতœ কিছুদিন পর তাদের ঘরে নতুন অতিথি আসবে একলা বাড়িতে দেখাশুনা করার মতো কেউ না থাকায় রতœ বাপের বাড়ি চলে গেছে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির বিজলি বানু কে ঠিক করে দিয়ে গেছে সময়মতো দেলুর খাওয়া-দাওয়ার যাবতীয় দেখাশুনা করতে

.
অভাব-অনটনের মধ্যেও ভাল চলছিল বিজলি বানুর ছোট সংসার হরতাল-অবরোধের সময় পেট্রোল বোমায় নির্মম ভাবে প্রাণ হারায় বিজলির স্বামী এরপর থেকে বিজলি মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে সংসার চালায় অনেকে তাকে বিয়ে করার প্রস্থাব দিয়ে ছিল সমাজের দুষ্ট লোকেরা বিভিন্ন ভাবে লোভ দেখিয়ে কু-প্রস্থাব দিয়েছিল দুই ছেলে-মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বিজলি সাড়া দেয়নি তাদের কোন আহবানে সময়মতো কাজে আসে কাজে ফাঁকি দেয় না কখনো অন্য অনেকের মতো মালিকের অনুপস্থিতিতে চুরির অভ্যাস নেই বলে বিজলিকে সবাই পছন্দ করে সাড়া গ্রাম জুড়ে এই জন্য বেশ সুনাম আছে তার

.
হাসপাতালের বারান্দায় অস্থিরচিত্তে পাইচারি করছে দেলুমিয়া অনেকক্ষন যাবত অপেক্ষা করছে ডাক্তারের কাছ থেকে সুখবর শুনার জন্য ডাক্তার এসে যা বলল তা প্রত্যাশা করেনি কখনো মা সুস্থ থাকলেও সন্তান বেচেঁ নেই চোখ দিয়ে অনবরত টপটপ জল পড়তেছিল শ্রাবণ ধারার মতো নিজেকে ধরে রাখতে পারছিল না, হারানোর কষ্টে বুক ভেঙ্গে যাচ্ছিল তার এখন বুঝতে পারছে হারানোর বেদনা কতটা কষ্টদায়ক যা সেই আগে কখনো উপলব্ধি করেনি পাপ কাজের জন্য আজকের এই পরিনতি নিজের প্রতি খুব ঘৃনা হচ্ছে তার এখন থেকে আর কোন খারাপ কাজ করবে না দেলু মিয়া শপথ করেছে মৃত সন্তানের মাথায় হাত রেখে


.
বিজলি বানুর এক ছেলে এক মেয়ে মেয়ে এক বছর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গিয়েছিল কেন এমন করেছিল মেয়েটি তার আসল রহস্য এখনো অজানা সবার কাছে কেউ না জানলেও দেলুমিয়া বিবেকের কাছে নিজে এখনো অপরাধী সেই দিন বর্ষার রাতে বিজলি বানু অসুস্থছিল বলে মেয়েকে পাঠিয়েছিল রাতের খাবার তৈরি করতে দেলুমিয়ার বাড়িতে কামনার তাড়নায় ক্ষুধার্ত শিক্ষারী পশুর মতো ফাঁকা বাড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মেয়েটির উপর পরদিন মেয়েটি লজ্জা, ভয় আর অপমানে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিল চিরতরে বিজলি বানুর এখন বেচেঁ থাকার শেষ সম্ভল ছেলেটি পাহাড়ে গাছ কাটতে গিয়ে কুড়ালের আগাতে পা কেটে পেলেছে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে ডান পায়ে চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন যার ব্যায় ভার বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় সাহায্যের জন্য অনেক জায়গায় গিয়েছে সবার কাছ থেকে যা সহযোগিতা পেয়েছে তা দিয়ে চিকিৎসার খরচ হচ্ছে না আরো অনেক টাকার প্রযোজন

.
বিজলি বানুর ছেলে চিকিৎসা শেষে এখন পরিপূর্ন সুস্থ হয়েছে মা তার ছেলেকে সুস্থ পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে ছেলের চিকিৎসার সব টাকা দেলুমিয়া দিয়েছে নিজের কাছে কেমন যেন এক প্রশান্তি কাজ করছে যে ভুলের কারনে মেয়েটি প্রাণ দিয়েছে তার ক্ষতিপুরণ কখনো টাকা দিয়ে মূল্যায়ন হবে না যতদিন বেচেঁ থাকবে ততদিন এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানুষের উপকার করে যাবে এমন প্রতীজ্ঞা দেলুমিয়ার উপকার করার মাঝে এত সুখ এত আনন্দ থাকতে পারে যা আগে কখনো উপলব্ধি করেনি দেলুমিয়া অন্যায় আর পাপ কাজের মাঝে ব্যক্তি জীবন কেমন কারে অশান্তি, অশুভ ছায়া আর অন্ধকারে পর্যবসিত হয় চলার পথে বিগত দিনগুলোতে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দেলুমিয়া সন্তাান মৃত ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ইয়াবা ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে হালাল ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছে এরপর থেকে সাধ্যমত মানুষের উপকার করা তার নিয়মিত নেশা হয়ে দাড়িয়েছে

গল্পটি ‘‘প্রায়শ্চিত্ত” জুন সংখ্যা 2016 প্রকাশিত। বিস্তারিত নিচের ওয়েব লিংকে....