Saturday, January 28, 2017

□ অনুগল্প » অপমৃত্যু


এক.
মেয়েদের দিকে  ড্যাব ড্যাব চোখে তাকিয়ে থাকে। বিভিন্ন  ছুতায় স্পর্শকাতর জায়গায় হাত লাগানোর চেষ্টা করে।  বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ দুষ্ট দুষ্ট কথা বলে। যা শুনার পর মেয়েরা প্রায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। জসিম ছেলেদের সাথে রুক্ষ ব্যবহার করলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে তার নরম ব্যবহার দেখা যায়। স্কুলের বড় ক্লাসের বড় আপুরা বলে ঐ বেটার চোখ খারাপ। তানি কিছুটা হলেও বুঝতে সক্ষম হয় কেননা তাকেও নিয়মিত লাইব্রেরীতে যেতে  হয় নোট করার জন্য। গন্থাগারিকের ব্যবহার মধুময় হলেও দৃষ্টিভঙ্গি তার কাছে অশোভনীয় বলে মনে হয়।

দুই.
বাবা-মার আদরের মেয়ে তানি। ছোট থেকে মেয়েটা খুব চঞ্চল আর দুরন্তপনা । যার ফলে খুব সহজে মানুষের  নজরে চলে আসে। শারিরীক দিক দিয়ে দেখতে খুব হৃষ্টপুষ্ট ও সাবলীল। দেখে মনে হবে না সেই ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী। প্রথম দেখাতেই সবাই মনে করে সেই ৯ম কিংবা ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। ছোট বেলা থেকে পড়াশুনায় দারুন মেধাবী  বলে মা-বাবার মতো পাড়া-প্রতিবেশী ও স্কুলের সব স্যার তানিকে নিয়ে খুব আশাবাদী। সুচিকিৎসার অভাবে তার ছোট খালা প্রসব বেদনার সময় মারা গিয়েছিল। সেই থেকে তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পড়াশুনা শেষ করে মেয়ে একদিন বড় ডাক্তার হবে। পরিবার পরিজনের মুখ উজ্জ্বল করবে। গ্রামের অসহায় দুস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায় তার মেয়ে এগিয়ে আসবে।

তিন.
সূর্য ডুবু ডুবু সন্ধ্যার আবেশ ছড়িয়ে পড়ছে প্রকৃতির মাঝে। নিরব নিস্তব্ধতায় ছুঁযে গেছে চারপাশ। গ্রামের একটি ধর্মীয় সভায় গিয়েছিল তারা। সভা প্রায় শেষ হতে চলেছে। মা তানিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল সভা শেষ হওয়ার খানিকটা সময় পূর্বে ঘরে সন্ধ্যা বাতি জ্বালানোর জন্য। বাড়ি থেকে সভারস্থলের  দুরত্ব বেশি নয়।  খাল পাড়ের বাশঁঝাড়টা পার হলেই তাদের বাড়ি দেখা যায়। যাওয়ার পথে দেখা হয় স্কুলের লুচ্ছা খ্যাত গ্রন্থাগারিক জসিমের  সাথে। একা পেয়ে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তানির উপর। পৌঁছে দেওয়ার নাম করে তানির সাথে ভাব জমিয়ে যায়  বাড়ি পর্যন্ত । পরিবেশ বুঝে শিকারী বাঘের  মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ফাঁকা বাসায়। অল্প সময়ে ক্ষত-বিক্ষত হয় ফুলের পাঁপড়ির মতো তানির কোমল শরীর।  বিছানায় অজ্ঞান হয়ে নুয়ে পড়ে তানির নিথর দেহ ফুলদানিতে রাখা বাসী ফুলের মতো।

চার.
ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায় পুরো গ্রামে। চলে আসে সোস্যাল মিডিয়ার টাইমলাইনে ও দৈনিক প্রত্রিকার পাতায়। অপমান-লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে মা-বাবা পাঠিয়ে দেয় নানার বাড়িতে। কারো সামনে যেতে পারে না চক্ষু লজ্জায়। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়। কারাগারে আটক লম্পট জসিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্কুল কৃর্তপক্ষ। কারণে-অকারণে মানুষও মুখরোচক কথা বলে বেড়ায় চারপাশে। সুস্থ হওয়ার পর মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে চঞ্চল মেয়েটি। মানসিক যন্ত্রনায় বেঁচে থাকার উৎসাহ হারিয়ে পেলে ধীরে ধীরে। দুর্ষহ স্মৃতি বার বার চোখের মনিকোঠায় ভেসে উঠে তার। এমন দুর্বিসহ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানার বাড়িতে সবার অজ্ঞাতসারে  কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে তানি। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানায় অপমৃত্যু নামে একটা মামলা নথিভুক্ত করেছে।


জানুয়ারী 4, 2017 গল্প, স্লাইড

No comments:

Post a Comment